দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফ্রান্স ফুটবল দলের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম এবং অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের চমৎকার বোঝাপড়া ও যৌথ লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমে এই ‘মিশন পসিবল’ শব্দবন্ধটি উঠে এসেছে।
সুইডেনকে হারিয়ে ফ্রান্সের নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়ার পর দলের এই নতুন স্বপ্ন ও রসায়নের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল কোচ আইমে জ্যাক ও অধিনায়ক দিদিয়ের দেশমের অসাধারণ বোঝাপড়া। প্রায় তিন দশক পর এবার কোচের ভূমিকায় থাকা দেশম যেন একই ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন বর্তমান অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে।
নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার ম্যাচে সেই বন্ধনেরই এক আবেগঘন ছবি দেখা গেল। ম্যাচে প্রথম গোল করার পর সরাসরি টাচলাইনে ছুটে গিয়ে দেশমকে জড়িয়ে ধরেন এমবাপে।
এরপর একে একে পুরো ফ্রান্সের সব ফুটবলার মিলে কোচকে ঘিরে আলিঙ্গনে মেতে ওঠে। কয়েক দিন আগে মায়ের মৃত্যুর কারণে দেশে গিয়ে ফিরে এসেছেন দেশম। দলের এই সম্মিলিত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা যেন জানিয়ে দিল- এই ফ্রান্স কেবল প্রতিভায় নয়, ঐক্যেও শক্তিশালী।
আর এই দলের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন এমবাপে। চলতি বিশ্বকাপে এরই মধ্যে ছয় গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও করেছেন তিনি।
তবে তার অবদান শুধু পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়। কঠিন সময়ে সতীর্থ উসমান দেম্বেলেকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন, আবার বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের বিশ্বকাপ জেতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের ক্ষত এখনও ভুলতে পারেননি এমবাপে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেও শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি ফ্রান্স। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে শিখিয়েছে-একজন খেলোয়াড় যত বড় তারকাই হোন না কেন, একা বিশ্বকাপ জেতানো সম্ভব নয়।
তাই এবার শুধু গোল করার দায়িত্ব নয়, নেতৃত্বের ভূমিকাও কাঁধে তুলে নিয়েছেন এমবাপে। যার নজির দেখা গেছে দ্বিতীয়ার্ধে। সহজ সুযোগ হাতছাড়া করার পর তরুণ মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসেকে সাহস জুগিয়েছেন, প্রয়োজন হলে রক্ষণেও বাড়তি দায়িত্ব পালন করছেন।
ক্লাব ফুটবলে পিএসজি বা রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলার সময় প্রায়ই ব্যক্তিকেন্দ্রিক বলে সমালোচিত হন এমবাপে। আর চলতি বিশ্বকাপে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে ডাকা হচ্ছে স্বৈরাচার বলে। তবে জাতীয় দলে তিনি হয়ে উঠেছেন সবাইকে এক সুতোয় গাঁথার নেতা।
“কিলিয়ান (এমবাপে) রক্ষণ সামলাতেও জানে। গোল তো সে করেই, অন্য সবার চেয়ে বেশি করে। প্রথম দিন থেকেই বলেছিলাম, সে একটা মিশনে নেমেছে। অনুশীলনে ফিটনেস ড্রিলেও সবার আগে শেষ করছে সে।”
“অনেক আগেই বলেছিলাম, সে অধিনায়কের দায়িত্বটা পুরোপুরি নিজের করে নিয়েছে। বাইরে থেকে মানুষ তাকে যেভাবে দেখে, বাস্তবের কিলিয়ান আসলে তেমন নয়।”
ম্যাচ শেষে এমবাপেও কোচের পাশে থাকার বার্তা দেন।
“আমরা সবাই জানি, এখানে আমাদের কী করতে হবে। আমরা ভালো খেলেছি, যদিও শুরুটা কঠিন ছিল।”
“এটাই আমাদের দলের ডিএনএ। আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। কোচ জীবনের খুব কঠিন একটি সময় পার করছেন। এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে একদিন সবাইকেই যেতে হয়। তবে তিনি কখনও আমাদের মধ্যে একা নন। আমরা সবসময় তার পাশে থাকব।”
পরের ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অবশ্য হাস্যরসের আশ্রয় নেন এমবাপ্পে।
“প্যারাগুয়ে? এই মুহূর্তে আমার পুরো মনোযোগ ড্রেসিংরুমের এয়ার কন্ডিশনারের দিকে।”
সব শেষে দেশম যেন পুরো দলের মনোভাবই এক বাক্যে তুলে ধরেন, “ওরা একটা মিশনে আছে, আমিও ওদের সঙ্গে সেই একই মিশনে আছি।”
ফ্রান্সের সেই মিশনের নাম এখন ‘মিশন পসিবল!’ যা তারা সফল করে দেখিয়েছে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে। পরে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও তারা উঠেছিল ফাইনালে। অল্পের জন্য সেবার না পারলেও, ২০২৬ সালে দেশম-এমবাপে রসায়নে আরেক মিশন পসিবলে নেমেছে ফ্রান্স।
কে